২১ এপ্রিল ২০২০ তারিখে শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৯৯৬ ব্যাচের জামেয়ান ইমরান লস্কর তাঁর ছাত্রজীবনের একটি হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতি শেয়ার করেন। এটি শুধু পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে নয়, বরং বন্ধুত্ব, সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং একসঙ্গে বেড়ে ওঠার এক অনন্য গল্প।
তিনি লিখেছেন
“আমাদের ক্লাসে সব সময় ফাস্ট হতো সোহেল, একদম ক্লাস ১ থেকে ৯ পর্যন্ত কোন ব্যতিক্রম ছাড়া। প্রতি বছর চেষ্টা করতাম কিন্তু ২য় পর্যন্ত হয়েছি। শেষ পর্যন্ত ক্লাস ১০ এ মরিয়া হয়ে চেষ্টা করলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম ফাস্ট হতেই হবে, হয়েও গেলাম। রেজাল্ট ঘোষণার পর সে এমন কান্না শুরু করলো, আমার তখন মনে হলো সেকেন্ড হওয়াই ভাল ছিল। কারণ ওটাতেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম, আর সোহেল ফাস্ট হিসেবে।”
এই ছোট্ট স্মৃতিচারণে ধরা পড়ে একটি সময়ের নির্মল ছাত্রজীবন – যেখানে প্রতিযোগিতা ছিল, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; ছিল একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা, আবার বন্ধুর কষ্টে নিজের আনন্দও ম্লান হয়ে যাওয়ার আন্তরিকতা।
ইমরান লস্করের সেই সহপাঠী ছিলেন ডা. ফজলুল হক সোহেল। দীর্ঘ নয়টি বছর শ্রেণিতে প্রথম হওয়া একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য সেই একবারের ব্যতিক্রম ছিল আবেগের বিষয়। আর ইমরানের কাছে নিজের প্রথম হওয়ার আনন্দের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল বন্ধুর অশ্রু।
এমন স্মৃতিগুলোই প্রমাণ করে, জামেয়ার প্রকৃত শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না; এখানে গড়ে উঠেছে আজীবনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানবিকতা এবং হৃদয়ের বন্ধন।
আজ বহু বছর পর জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হলেও, সেই শ্রেণিকক্ষের স্মৃতি, ফলাফল ঘোষণার দিন আর প্রিয় বন্ধুদের মুখ এখনও সমানভাবে জীবন্ত। এমন গল্পগুলোই জামেয়ার ইতিহাসকে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস নয়, বরং হাজারো জামেয়ানের জীবনের গল্পে পরিণত করেছে।
জামেয়া অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক বিশ্বাস করে, এমন স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জামেয়ার প্রাণ, ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধকে সংরক্ষণ করা। এগুলোই আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান অ্যালামনাই ঐতিহ্য।


